অক্সফোর্ড এর টিকা প্রয়োগ হবে দেশের পাঁচ জায়গায়। আপনার জায়গার নাম আছে নাকি জানতে দেখুন বিস্তারিত।


অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা COVID 19 প্রতিষেধক তৃতীয় এবং চূড়ান্ত ধাপে মানবদেহে প্রয়োগের জন্য দেশের পাঁচটি জায়গাকে বেছে  নিল কেন্দ্র। তবে সেই জায়গাগুলো কোথায় তা উল্লেখ করেনি তারা।
করোনার প্রতিষেধক নিয়ে অক্সফোর্ড এবং তার শরিক অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে কাজ করছে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক প্রস্তুতকারক সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। মানবদেহে করোনার প্রতিষেধকের প্রথম দুটো পর্বের প্রয়োগ গত মাসেই হয়ে গিয়েছে। এ বার তৃতীয় পর্ব প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে সেরাম।

সোমবার সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের জৈব প্রযুক্তি দফতরের (ডিবিটি) সচিব রেণু স্বরূপ জানান, দেশবাসীকে প্রতিষেধক দেওয়ার আগে এ বিষয়ে খুব সতর্ক ভাবেই পা ফেলতে হবে। তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি প্রতিষেধক প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে কাজ করছি আমরা। সেরামের তৃতীয় পর্বের এই পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রয়োগ যদি সফল হয় তা হলে দেশবাসীকে এই প্রতিষেধক দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে।” 
সেরাম আগেই জানিয়েছিল, চূড়ান্ত সম্মতি আসার আগে তারা প্রতিষেধক তৈরির কাজ শুরু করে দেবে। প্রতিষেধকের বিষয়ে সব রকম অনুমতি পাওয়ার পরই নির্দিষ্ট পরিমাণের প্রতিষেধক বাজারে ছাড়বে তারা। তাই তৃতীয় ধাপের এই প্রয়োগের ফল কী হয় সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে তারা। সেরাম ছাড়াও দেশের করোনার প্রতিষেধক নিয়ে কাজ করছে জাইডাস ক্যাডিলা এবং ভারত বায়োটেক। মানবদেহে প্রতিষেধক প্রয়োগের প্রথম ধাপে রয়েছে তারা।
মানবদেহে প্রথম পর্বের প্রতিষেধক প্রয়োগের পর গত ২০ জুলাই বিজ্ঞানীরা ঘোষণা করেন, অক্সফোর্ড যে প্রতিষেধক তৈরি করেছে তা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং দেহে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পক্ষেও সক্ষম। ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়, গত এপ্রিল ও মে-তে ব্রিটেনের পাঁচটি হাসপাতালে ১৮-৫৫ বছয় বয়সি ১ হাজার ৭৭ জন সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রথম পর্বের প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হয়। দেখা গিয়েছে, প্রতিষেধক দেওয়ার ৫৬ দিন পরে তাঁদের শরীরে শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় পর্বে ১০০ জনকে দুটো ভাগে ভাগ করে এই প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হয়। শিশু এবং বয়স্কদের দুটো আলাদা দলে ভাগ করেন বিজ্ঞানীরা। এই পর্বের প্রয়োগও সফল হয়। এ বার তৃতীয় ধাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে অক্সফোর্ড। এই পর্বে এক হাজার মানুষের দেহে করোনার প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হবে।

করোনায় মৃত্যু হলো সেনকো গোল্ডের মালিক শঙ্কর সেন এর

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল সেনকো গোল্ডের কর্ণধার শঙ্কর সেনের। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। করোনায় আক্রান্ত হয়ে টানা দশদিন তিনি ভরতি ছিলেন হাসপাতালে। জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। মঙ্গলবার সকালে হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। তারপরই মৃত্যু হয় তাঁর।


বাঙালি শিল্পোদ্যোগী হিসেবেই শুধু নন, শঙ্কর সেন সারা ভারতের গয়নাশিল্পে ছিলেন পরিচিত মুখ। নয়ের দশকে বাবার তিনটি ছোট সোনার দোকান থেকে ব্যবসার হাল ধরেছিলেন শঙ্কর সেন। সেখান থেকে সেনকো গোল্ডের বাৎসরিক টার্নওভার এখন আকাশছোঁয়া। দেশের একশোটিরও বেশি ব্রাঞ্চ রয়েছে সেনকো গোল্ডের। সারা দেশের ১৪টি রাজ্যে বিস্তৃত সেনকোর ব্যবসা। সংস্থার প্রধান মানুষটাই এভাবে আকস্মিক চলে যাওয়ায় বিপর্যস্ত সেনকো গোল্ডের কর্মীরা। দেশের স্বর্ণ ব্যবসায় শঙ্কর সেনের ক্ষুরধার মস্তিষ্কের প্রশংসা করতেন অনেক বড় শিল্পপতিরাও। সেই তিনিই বিদায় নিলেন মারণ ভাইরাসের কারণে।
করোনা মহামারীর বিরুদ্ধেও শঙ্কর সেনের নেতৃত্বে লড়াইয়ে সামিল হয়েছিল সেনকো গোল্ড। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) সঙ্গে যৌথভাবে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের সম্মানিত করেছিল সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস। মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ডাক্তার, নার্সদের অবদানকে কুর্নিশ জানাতেই তাঁদের সম্মানিত করেছিল সেনকো।
চলতি মাসেই এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হয়েছিল ওই অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রাজ্যের করোনা হাসপাতালগুলিতে যে সমস্ত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা অবিরত কাজ করে চলেছেন, তাঁদের প্রশংসা করা হয়। অনুষ্ঠানে সেনকো গোল্ড এবং ডায়মন্ডসের তরফে করোনাযোদ্ধাদের হাতে বিশেষ নকশা করা রুপোর মুদ্রা তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিকল্পনাও ছিল শঙ্কর সেনের।
সম্প্রতি আরেক বাঙালি শিল্পোদ্যোগী অর্ণব বসুও প্রয়াত হয়েছেন। তবে তিনি করোনায় নয়, মারা যান ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে। অর্ণব বাবু রাজ্যের জনপ্রিয় কেক-পেস্ট্রির রিটেল চেন, মিও আমোরের ( mio amore) কর্ণধার ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। বেশ কিছুদিন যাবৎ ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। গত ৩ জুলাই তিনি শেষনিঃস্বাস ত্যাগ করেন।
এবার করোনা কে়ড়ে নিল সেনকো কর্ণধারের প্রাণ। স্বাভাবিক কারণেই শোকের ছায়া রাজ্যের শিল্প মহলে। শোকে আচ্ছন্ন সংস্থার অগণিত কর্মী-সদস্যরা।

মুখ্যমন্ত্রী কি বললেন? কবে কবে হচ্ছে লকডাউন ? বকরি ইদ, রাখি পূর্ণিমা ও স্বাধীনতা দিবসে ছাড়।

বকরি ইদের কারণে চলতি সপ্তাহের শনিবার রাজ্যে জারি হবে না কমপ্লিট লকডাউনের নিয়ম। পরিবর্তে লকডাউন হবে রবিবার অর্থাৎ ২ অগাষ্ট, মঙ্গলবার নবান্ন থেকে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পাশাপাশি, অগাষ্টের কোন কোন দিন রাজ্যে লকডাউন জারি থাকবে সেই তালিকাও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

করোনা (Corona Virus) সংক্রমণ রুখতে কিছুদিন আগেই ফের লকডাউন জারি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য। ঘোষণা করা হয়েছিল যে, প্রতি সপ্তাহে দুদিন করে সম্পূর্ণ লকডাউন থাকবে গোটা বাংলা। জানানো হয়েছিল যে, চলতি সপ্তাহের বুধবার অর্থাৎ ২৯ জুলাই জারি থাকবে লকডাউন। কিন্তু আরেক দিন কবে? শনিবার কি? তা নিয়ে ধোঁয়াশায় ছিল আমজনতা। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, ৩১ অগাষ্ট পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও রবিবার করে রাজ্য জারি থাকবে কমপ্লিট লকডাউন। তবে চলতি সপ্তাহে বুধবারের পর শনিবার লকডাউন হবে না। কারণ, ওই দিন, ১ অগাষ্ট বকরি ইদ। তবে শনিবারের বদলে রবিবার হবে লকডাউন। একইভাবে রাখি পূর্ণিমা ও স্বাধীনতা দিবসের দিনও কমপ্লিট লকডাউনের আওতার বাইরে।
তবে কোন কোন দিন জারি থাকবে লকডাউন? 
তালিকা অনুযায়ী, অগাষ্টের ২ ৫, ৮, ৯, ১৬, ১৭, ২২, ২৩, ২৯, ৩০ তারিখ সম্পূর্ণ লকডাউন থাকবে রাজ্যে। অতএব অগাষ্টের প্রতি রবিবারই জারি থাকবে লকডাউন। প্রসঙ্গত, শনিবার ইদ উপলক্ষে লকডাউন জারি থেকে বিরত থাকলেও সমস্ত নিয়ম মেনেই সকলকে আনন্দ করতে বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে। প্রতিদিনই প্রায় ২০০০ বেশি রাজ্যের বাসিন্দা আক্রন্ত হয়েছেন। বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও। সেই কারণেই ফের এই লকডাউনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের।

নতুন গাড়ি-বাইক কেনার নিয়মে বদল, নয়া পদ্ধতি চালু ১ অগস্ট থেকে

নতুন গাড়ি বা বাইক কেনার সময় এবার থেকে আর দীর্ঘ মেয়াদি “থার্ড পার্টি মোটর ইনসিওরেন্স”এর প্রিমিয়াম দিতে হবেনা গ্রাহককে। গত জুন মাসে,দেশের বিমা নিয়ামক সংস্থা IRDAIএর তরফ থেকে সমস্ত বীমা সংস্থাগুলিকে এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। IRDAIএর স্পষ্ট নির্দেশ, আসন্ন পয়লা আগস্ট থেকে গাড়ি বা বাইক গ্রাহকদের থার্ড পার্টি মোটর ইনসিওরেন্স প্যাকেজ বিক্রি করতে পারবেনা বীমা সংস্থাগুলি। এতে নতুন গাড়ি কেনার গ্রাহকদের খরচ অনেকটাই কম পড়বে।
বর্তমানে, গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে তিন বছরের মেয়াদে OD কভার এবং থার্ড পার্টি ইনসিওরেন্স এর প্রিমিয়ামের টাকা দিতে হয় গ্রাহককে। মোটরবাইক কেনার ক্ষেত্রে মেয়াদ পাঁচ বছরের। এই বীমার প্রিমিয়ামের কারণে, নতুন গাড়ির দাম অনেকটাই বেশি হয়ে যায়। গ্রাহকদের এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতেই সম্প্রতি IRDAI এর তরফ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পহেলা আগস্ট থেকে গাড়ি কিনলে বীমার জন্য অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হবে না গ্রাহককে।

Acko জেনারেল ইনসিওরেন্সের প্রোডাক্ট স্ট্রাটিজির প্রধান অনিমেষ দাশ জানালেন, IRDAIএর নির্দেশ অনুসারে OD-র ক্ষেত্রে বিমার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করা হয়েছে। এছাড়া পলিসির শর্তাবলী এবং সুযোগ-সুবিধায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, এবার থেকে এক সংস্থার বীমার এক বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে, গ্রাহক চাইলে পরের বছর অন্য বীমা সংস্থার থেকে বীমা করাতে পারেন।

লকডাউনে পরিষেবা না মেলার জন্য, রাতের ট্রেন ধরতে ভিড় শিয়ালদহ স্টেশনে

ট্রেন ছাড়বে রাত ১১ঃ১৫ মিনিটে। আর যাত্রীরা স্টেশনে এসে পৌছে গেলেন সকাল ৬টায়। কেউ কেউ আবার এলেন সকাল ৮টার মধ্যে, সৌজন্যে লকডাউন। কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গের যাওয়ার জন্য এখন ভরসা শিয়ালদহ-নিউ আলিপুরদুয়ার এসি এক্সপ্রেস। এই স্পেশাল ট্রেন একমাত্র ভরসা হওয়ার কারণে যাত্রীদের চাপ রয়েছে। নিয়মানুযায়ী ট্রেন ছাড়ার দু'ঘন্টা আগে স্টেশনের মধ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় যাত্রীদের।

যেহেতু শনিবার লকডাউন, তাই রাস্তায় মিলছে না কোনও বাস, অটো বা ট্যাক্সি। ফলে স্টেশনে পৌছনো যাবে কিনা তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় তৈরি হয়েছিল। ফলে কেউ আর সময় নষ্ট না করে ভোরবেলা গাড়ি ভাড়া করে স্টেশনে চলে এসেছেন। কেউ কেউ আবার পায়ে হেঁটে এসেছেন শিয়ালদহ স্টেশনে। যদিও স্টেশনে তাদের ঢুকতে দিল না আর পি এফ। বাইরে খোলা আকাশের নীচেই ব্যাগ পত্তর, কেউ কেউ আবার বাচ্চাদের নিয়ে বসে থাকলেন। বেহালায় থাকেন কাঞ্চন দত্ত। বাড়ি কোচবিহারে। তিনি জানাচ্ছেন, "প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে আমাদের ওখানে। আবার কাল থেকে ভারী বৃষ্টি হবে। বন্যা পরিস্থিতি হয়ে গিয়েছে, তাই আমাকে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। আজ বেহালা থেকে আসার মতো কিছুই পাইনি, পাবো বলেও মনে হচ্ছিল না। আমি তাই পায়ে হেঁটে চলে এসেছি। ভোর ভোর চলে এলাম। পুলিশ দু'জায়গায় আটকেছিল। আমি রেলের টিকিট দেখানোয় আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।" একই অভিজ্ঞতা হয়েছে, আলিপুরদুয়ারের জয়ন্ত সাহার। তিনি জানাচ্ছেন, "একটা গাড়িকে ম্যানেজ করতে পেরেছিলাম। যদিও কসবা থেকে শিয়ালদহ ছেড়ে দিয়ে গেল গাড়ি ২৭০০ টাকা  নিয়েছে।"

কমবেশি একই অভিজ্ঞতা প্রত্যেকের। অনেকে অবশ্য আর পি এফ'কে বোঝানোর  চেষ্টা করেছিলেন, তাদের যদি স্টেশনে ঢুকে বসতে দেওয়া হয়। যদিও সেই অনুমতি দেয়নি রেল রক্ষী বাহিনী। ফলে ভোর থেকে রাত অবধি খোলা আকাশের নীচেই বসে থাকতে হল যাত্রীদের। এদিন অবশ্য সকাল থেকে কড়া ছিল স্টেশন এলাকার নজরদারির ছবি।

রেলের ফান্ড ফাঁকা, বেতন ও পেনশন দেওয়ার টাকা নেই রেলের।

লকডাউনের জেরে ধাক্কা খেয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা। কবে থেকে ফের স্বাভাবিকভাবে চলাচল করবে ট্রেনগুলি তাও স্পষ্ট নয়। ফলে বিস্তর ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ভারতীয় রেলকে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সময়মতো কর্মীদের বেতন ও পেনশন দেওয়া নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

জানা গিয়েছে, ১৫ লক্ষ পেনশনভোগীকে এ বছর ৫৩ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে রেলকে। এছাড়া রয়েছে কর্মীদের বিপুল অঙ্কের বেতনও। মন্দার মারে রেলমন্ত্রকের পক্ষে এই অর্থ দেওয়া সম্ভব হবে না। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রকের মিটিংয়ে অর্থমন্ত্রকের কাছে এই পেনশনের টাকা জোগান দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে রেলমন্ত্রক। সূত্রের খবর, রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নে ১২০ লক্ষ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণের অর্থ রেলের হাতে নেই। পাশাপাশি, ১৩ লক্ষ কর্মীর বেতন ও ১৫ লক্ষ অবসরপ্রাপ্তকে পেনশন দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে যে অর্থের প্রয়োজন তা রেলের ফান্ডে নেই। 
পরিকাঠামোর উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থ থেকে বেতন ও পেনশন দিলে নির্ধারিত প্রকল্প মার খাবে বা বন্ধ হয়ে যাবে। রেলমন্ত্রকের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে, অন্তত এবছরের পেনশন অর্থমন্ত্রক দিক।
এদিকে, রেলমন্ত্রকের এই বার্তায় তীব্র অসন্তোষ ছাড়িয়েছে রেলকর্মীদের মধ্যে। পেনশনভোগীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। পূর্ব রেলের মেনস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অমিত ঘোষের কথায়, রেলকে কোথায় এনে ফেলেছে কেন্দ্র সরকার। লালুপ্রসাদ যাদব রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ২০ হাজার কোটি টাকা আয় হয়েছিল। এখন আর কোনও আয় নেই। যাত্রীবাহী ট্রেনে তেমন আয় হয় না। ৪৩ শতাংশ সাবসিডি দিতে হয় রেলকে। যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধে সেই টাকা বেঁচে গিয়েছে। শ্রমিক স্পেশ্যাল চালিয়ে ৪৩৯ কোটি টাকা আয় হয়েছে। পণ্য পরিবহণ বাড়িয়ে আয়ের ভারসাম্য রাখার চেষ্টা হচ্ছে। আগামী দু’বছর পণ্য থেকে আয় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারপরেও আয় হচ্ছে না রেলের। এই বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

লকডাউন নিয়ে আজ বিকেলে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। সাংবাদিক দের নিয়ে হবে বৈঠক।

সপ্তাহে দুদিন করে লকডাউনের ঘোষণা ইতোমধ্যে করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শনিবার ছিল লকডাউন। চলতি সপ্তাহে লকডাউন হবে বুধবার। কিন্তু তাতেও রাজ্যে করোনা সংক্রমণে বাঁধ দেওয়া যায়নি। প্রতিদিনই গড়ে ২০০০-২২০০ জন আক্রান্ত হচ্ছেন মারণ ভাইরাসে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টের সময় ফের সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, সেখান থেকে লকডাউন নিয়ে কোনও বড় ঘোষণা করতে পারেন তিনি।


সোমবার কলকাতা-সহ তিন শহরে ICMR-এর অত্যাধুনিক করোনা পরীক্ষাকেন্দ্রের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিষদে কথা হয় তাঁর। সেই প্রসঙ্গেই রাজ্যে বিমান চলাচল ও ইউজিসি-র পরীক্ষা নির্দেশিকা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারনা, অনেক রাজ্যই যেখানে টানা লকডাউনের পথে হেঁটেছে, সেখানে শুধুমাত্র সপ্তাহে দুদিন লকডাউন ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু তাতে সংক্রমণ থামার কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ফের কি ধারাবাহিক লকডাউন ঘোষণা করবেন মুখ্যমন্ত্রী? উদগ্রীব অপেক্ষা অনেকেরই।

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এদিন প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে মোট ৮১টি করোনা-ল্যাব রয়েছে। তবে আরও ল্যাব দরকার। বাংলায় ইতোমধ্যে ১০৬টি সেফ হাউস তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও প্লাজমা ব্যাংক এবং নতুন কোভিড ক্লাবও হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় বাংলা ঠিক কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে, তা প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু এরই পাশাপাশি রাজ্যের করোনা চিত্রও যে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগজনকই হয়ে রয়েছে, তা এদিনের করোনা সম্পর্কিত স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনেও স্পষ্ট। গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে আরও ২১১২ জন ব্যক্তির শরীরে করোনা সংক্রমণ দেখা গিয়েছে। থেমে নেই মৃত্যু মিছিলও। গত ২৪ ঘণ্টায় মারণ ভাইরাসের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের। তবে, আশার কথা হল পশ্চিমবঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় যত জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন, সেই তুলনায় সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির সংখ্যা বেশি। আক্রান্ত যেখানে ২১১২ জন, সেখানে ২১৬৬ জন মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। যা রীতিমতো আশাপ্রদ বলছেন চিকিৎসকরা। তবে, এখনই নিশ্চিন্ত হওয়ার উপায় নেই। কারণ রাজ্যের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিকেও যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ফের কি লকডাউনের পথেই হাঁটতে চলেছে রাজ্য, অপেক্ষা মঙ্গলবার বিকেল ৪টে পর্যন্ত।